বদরগঞ্জে যানজটে নাকাল পৌরবাসী,স্হায়ী পরিত্রাণ চায় সাধারণ মানুষ।
বদরগঞ্জে যানজটে নাকাল পৌরবাসী,স্হায়ী পরিত্রাণ চায় সাধারণ মানুষ।
রানা ইসলাম বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
যানজট ও ফুটপাত অবৈধ দখল ও যত্রতত্র গাড়ি পাকিং কারণে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের নিরাপদে চলাচল এখন চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে দীর্ঘ যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট,
পণ্যসামগ্রী রাখা, রিকশা-ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিং করায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পথচারী, যানবাহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম একই জায়গায় চলায় সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা।ফলে সাধারণ মানুষে সময় নষ্ট হচ্ছে। বদরগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমানে মেয়র না থাকলেও উপজেলা প্রশাসন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়ক দখলসহ যানজটের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও কার্যকর ও
স্থায়ী সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ দখল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও বদরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সেই ফুটপাত এখন দোকানপাট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের দখলে। পৌরসভা হাসপাতাল রোডের ফুটপাতজুড়ে শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানে সবজি, কাপড়,
জুতা, খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা চলছে। একই চিত্র মিতা রোড, হক সাহেবের মোড়, ১২ ও ১৩ নম্বর রেলগুমটি বাজার রোড, জমি রেজিস্ট্রার রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে। কোথাও ফুটপাতের ওপর খাবারের দোকান ও রান্নার সরঞ্জাম, কোথাও টায়ার ও গাড়ি মেরামতের সামগ্রী, আবার কোথাও আসবাবপত্র, কাপড় ও অন্যান্য পণ্য রাখা হয়েছে। পথচারীদের অভিযোগ, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের মূল সড়কে নামতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজটের ঝুঁকিও বাড়ছে। ফুটপাত দখলে বাড়ছে যানজট ফুটপাত দখলের প্রভাব শুধু পথচারীদের চলাচলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুটপাত বন্ধ হয়ে গেলে পথচারীরা সড়কে নামছেন। পাশাপাশি সড়কের পাশে দোকান, হকার, অবৈধ পার্কিং ও পণ্য ওঠানামার কারণে যানবাহন চলাচলের জায়গাও সংকুচিত হচ্ছে। ফলে একই সড়কে একাধিক ধরনের ব্যবহার তৈরি হওয়ায় যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। রংপুর-পার্বতীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে বদরগঞ্জ পৌরশহরে প্রবেশের পথেও নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
শহরবাসী ও এ পথে চলাচলকারী মানুষের মতে, সংকীর্ণ সড়ক, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল, সড়কের ওপর যত্রতত্র বাস থামানো এবং রিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং যানজটের অন্যতম কারণ। উচ্ছেদ হয়, আবার ফিরে আসে দখল বদরগঞ্জ পৌরশহরের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চলতি বছরেও একাধিক অভিযানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মালামাল জব্দ ও জরিমানাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে ফুটপাত ও সড়ক। কোথাও আবার রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের অবৈধ পার্কিং শুরু হয়।
ফলে যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। শহরের স্থানীয় জনবাসিন্দার মতে, বদরগঞ্জ পৌরশহরের যানজট ও ফুটপাত দখল—এ দুটি সমস্যাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল পথচারীকে সড়কে নামতে বাধ্য করছে, আর সড়কের ওপর ব্যবসা ও অবৈধ পার্কিং যানবাহনের চলাচলের জায়গা কমিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যত্রতত্র আন্তঃজেলা বাস থামানো যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয়রা বলছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রথমেই ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। অটোরিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। বদরগঞ্জ মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, যানযট কারনে ঠিক সময় কলেজে উপস্থিত হতে পারিনা।এছাড়াও যানযট সময় রাস্তা দিয়ে হাটা মুশকিল হয়ে পড়ে। বদরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন,প্রতিদিন যানযটে কারনে মানুষের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রান চাই আমরা।
এ ছাড়া যত্রতত্র বাস থামানো যাত্রী ওঠানামা ও সড়কে পণ্য ওঠানামা বন্ধ করে নির্দিষ্ট বাসস্টপ ও পণ্য ওঠানামার স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। ফুটপাত দখলের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল বা অবৈধ অর্থ আদায়ের বিষয় থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি রয়েছে। শহরবাসীর আরও দাবি, বদরগঞ্জ পৌরশহরের যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা, এআই ক্যামেরা ও ডিজিটাল ট্রাফিক প্রসিকিউশনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। রংপুর ২ আসনের একান্ত পিএস রুহুল আমিন বলেন, যানযট মুক্ত রাখার জন্য ফুটওভার,ও বাইপাস সড়ক জন্য মাননীয় এমপি মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আন্জুমান সুলতানা বলেন, যানযট নিরসন জন্য পৌরসভা থেকে চারজন লোক মাঠে কাজ করছে।এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা সড়কে নিয়মিত যানযটে নিরসনে ভূমিকা আছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স